Sunday, June 7, 2020

ফিরিয়ে দাও

ফিরিয়ে দাও আমার সেই দিনগুলো
      যা ছিল আমার শুধুই আমার।
ফিরিয়ে দাও আমার সেই সোনালি দিনগুলো,
যখন আমি ছিলাম আমার রাজ্যের রাজা
আমি আমার সেই দিন গুলো ফেরত চাই।
সেই মুক্ত বিহঙ্গের ন্যায় রঙ্গিন পাখামেলে
                উড়ে বেড়ানোর সেই সময়।

তোমার বাহু বন্ধনে এখন আমার নাভিশ্বাস উঠে
                           ছেড়ে যেতে চায় মন,
                   ছিড়ে যেতেচায় সকল বাঁধন।
আমি মুক্তি চাই-সকল বাঁধন থেকে
মুক্ত বিহঙ্গের ন্যায় আমি উড়ে যেতেচাই,
আমার ফেলে আসা  সোনালি সেই দিনগুলোতে
                     ফিরে যেতে চাই
 যা ছিল আমার, একান্তই আমার।

বেলীফুলের সমাধি


আমি একজন বুদ্ধিদ্বীপ্ত চৌকস মানুষ, অফিসে আমার প্রতিটি কাজ বেশ ভালো প্রশংসা কুরায়। ৯টা-৫টা অফিস করি, অফিস শেষ এ বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেই। বন্ধুরাও আমাকে বেশ সমঝে চলে। আমার প্রতি সকলের এই এটেনশন আমার বেশ ভালো লাগে,আমি তা উপভোগ করি। যখন শহর জুড়ে রাত্রি নামে,তখন আড্ডা শেষে আমি ঘরে ফিরি। ঘর!!! নামেই শুধু ঘর, যার দরজার ওপাশে কেউ আমার জন্য অপেক্ষা করে না। দরজার ওপাশে আমার জন্য অপেক্ষা করে একরাশ ভারী নিঃশ্বাসে ভারী হয়ে উঠা এক্টা গূমোট আবহাওয়া, যা প্রতিনিয়ত আমার জন্য অসহ্য হয়ে উঠেছে। দরজার ভাজ খুলে আমি প্রতিদিন প্রবেশ করি, চাবি, মানি ব্যাগ টাকে টেবিলের এক কোনায় ফেলে রেখে হিসেব কষতে বসি। কি হলো! কিভাবে গেলো আজ সারাটা দিন। এরপর ভাবতে ভাবতে যখন আর কোন তল খুজে পাই না তখন আমি উঠে দাড়াই, ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে দেখি এখন গভীর রাত!! তখন মনে হয়, হ্যা, আমাকে ঘুমাতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ, তাড়াহুরো করে শরীর টাকে এলিয়ে দেয়া বিছানার উপর তারপর ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে যাওয়া। অতঃপর আবার আরেক্টা দিনের শুরু। এইভাবেই ভালো যাচ্ছিল দিন। একদিন অফিস থেকে ফেরার পথে হাইকোর্ট এর মোড়টা ঘুরে যেই দোয়াল চত্বরের দিকে রিকশাটা ঘুরলো তখন চোখে পড়লো ঘন সবুজ এক গাছের ফাকে শ্বেত শুভ্র কিছু ফুল, দেখে আমার চোখ আটকে গেল। আমি থমকে গেলাম। আমি রিকশাটা থামিয়ে কি এক মোহে চলে গেলাম সবুজের কাছে। হাত বাড়িয়ে ছুয়ে দিলাম সেই পবিত্র ফুল,কলি। আমার এই আবেগ দেখে গাছের মালিক ভাবলো আমি বুঝি বৃক্ষ প্রেমি, তাই সে হেসে এগিয়ে এসে বল্লো, আজকেই এনেছি স্যার!! খুব যত্ন করে গড়া। আমিও হেসে আরেকবার ছুয়ে দিলাম সেই শ্বেত শুভ্র বেলির গায়ে। চলে আসতে চাইছিলাম কিন্তু কেন যেন পারলাম না!! কি এক মোহ আমায় আচ্ছন্ন করে রাখলো,আমি তাই গাছের মালিকের কাছ থেকে বেলি চারাটি সাথে নিয়ে একেবারে সোজা নিজ ঘরে এসে ফিরলাম। সে কি উচ্ছ্বাস আমার! এখন আমি একা নই আমার সাথে আরেকজন আছে। যে আমার জন্য অপেক্ষা করবে। আমার বেলকোনির এক কোনায় তাকে ঠাই দিলাম। সারাটা রাত তার দিকে তাকিয়েই পার করে দিলাম। সকালে পানি দিলাম, গুন গুন করে গান গেয়ে শোনালাম, আমায় এখন কে পায়। এইভাবেই যাচ্ছে দিন, কাল,মাস। ধীরে ধীরে এই শুভ্রতার প্রতি আমার মোহ কমতে শুরু করলো, আজ সে আমার মনোযোগ কাড়তে পারে না। আমি এখন অনেক ব্যস্ত, অফিস করে, বন্ধুদের সময় দিয়ে বাসায় ফিরে আমার আর বেলকনিতে যাবার সময় হয় না। বোকা বেলি গাছটি আমার জন্য অপেক্ষা করে, আমার পথ চেয়ে তাকিয়ে থাকে। মাঝে মাঝে সকাল বেলা সুযোগ পেলে গাছে গোড়ায় পানি দেই। অযথা সময় নষ্ট মনে হয় একে। এর চেয়ে সকাল বেলা এক্টু আগে বের হতে পারলে অফিসে গিয়ে আরও অনেক বেশি কাজ করা যায়, কতশত ফুল ফুটে আছে অফিসের আংগিনায় সেগুলো দেখা যায়। এই এক বেলির পেছনে সময় নষ্ট করার মত সময় কোথায়!!! বোকা বেলি ঠিকই তার মালিক কে খুশি করার জন্য, তার এক্টু আদর পাওয়ার জন্য ফুলের সুবাস ছড়িয়ে যাচ্ছে। যদিওবা পানি আজকাল খুব এক্টা গাছে গোড়ায় পড়ে না, তবুও যতটুকু পড়ে সেই টুকু নিয়ে নিজেকে নি:শেষ করে শুভ্রতা ছড়িয়ে যাচ্ছে। এভাবে ধুকে ধুকে একদিন সে মৃত্যুর পানে গিয়ে যাচ্ছে। তারপরও সে চাইছে তার মালিক তার পানে এক্টু দৃষ্টি দিক। একদিন আমার মনে হলো, কি হলো আজ কেন যেন কিছু এক্টা নাই! কি নাই, তার সন্ধানে আমি নামলাম। গিয়ে দেখি, বেলকোনির এক কোনে শুক্নো মাটির উপর কিছু রং চটা পাতা আর মরচে পড়া রংয়ের কিছু ফুল পড়ে আছে। আমি থ হয়ে দাড়িয়ে রইলাম,হাতে নিয়ে কিছু শুক্নো মরা ফুলের পাপড়ি। পাপড়ি গুলো যেন আমায় কিছু বলছে, মরা পাতা আমায় কিছু বলতে চাইছে, আমিও অনেক চেষ্টা করছি,কিন্তু পারছি না শুনতে। আমার মনে পড়ে যাচ্ছে, প্রতিদিন ফুলের সুবাসে আমার জেগে উঠা, তার শুভ্রতায় নিজেকে আবিষ্ট করা সেই দিন গুলো। আমি বসে আছি বেলীর সমাধির সামনে, সুর্যের আলো এসে পড়ছে আমার গায়ে,আর আমি ভাবছি কতটা অকৃতজ্ঞ আমি, আমি ফিরে চাইনি এদিক পানে। ফুলের সুবাস পাওয়া আমার অধিকার ভেবে বসে ছিলাম, কিন্তু তাকে এক্টু যত্ন করার সময় বের করতে পারিনি!!!! হায়!! যখন আমি বুঝতে পারলাম তখন সে আমায় ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছে অসীমের পানে।
( আমাদের জীবনের সম্পর্ক গুলো এই বেলী ফুল ও তার গাছের মত, এক্টু ভালোবাসা, এক্টু যত্নের অভাবে তা অকালেই ঝরে যায় )